ইস্টবেঙ্গলের সপোর্টারদের জন্য আজ একটি বিষণ্ণ দিন। তাদের প্রিয় অভিনেতা এবং একনিষ্ঠ সমর্থক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় আর নেই। তবে, আজীবন গ্যালারির অংশ হয়ে রাহুল থাকবেন লাল-হলুদ হৃদয়ে। গত বৃহস্পতিবার, যখন ইস্টবেঙ্গল তাদের ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল, তখন রাহুলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সমর্থকরা একটি বিশাল টিফো প্রদর্শন করেন। এই টিফোতে, রাহুলকে লাল-হলুদ পতাকা নিয়ে গ্যালারিতে হাসিমুখে বসে থাকতে দেখানো হয়েছিল। ছবির নিচে লেখা ছিল, “গ্যালারির আকাশে এক বিষন্ন সূর্যোদয়, লাল-হলুদ হৃদয়ে অমর অরুণোদয়।” এই ছবিটি সামাজিক মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং অনেকেই বলেছেন, রাহুল আজও আমাদের মধ্যে আছেন, কারণ গ্যালারির হিরোরা কখনো মরে না।
রাহুল শুধু রূপালি পর্দার অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের এক প্রগাঢ় সমর্থক। তার হৃদয়ে যা ছিল, তা ছিল লাল-হলুদ রক্ত। তিনি ক্লাবের ভালমন্দ সব অবস্থাতেই তাদের পাশে ছিলেন, বিশেষত যখন ইস্টবেঙ্গল চরম সংকটের মধ্যে ছিল। এমনকি, সেই সময়েও রাহুল ক্লাবের উন্নতি নিয়ে চিন্তা করতেন এবং তাকে নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতেন। সম্প্রতি, ‘সহজ কথা’ পেজে ব্রাত্য বসুর সঙ্গে একটি আলাপচারিতায় তিনি ফুটবল এবং ইস্টবেঙ্গলকে নিজের অভিনয় থেকে বড় কিছু বলে উল্লেখ করেছিলেন। তার মধ্যে ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা ছিল গভীর, যা কোনো সংকটও ভাঙতে পারেনি।
রাহুলের চলে যাওয়ার পর, প্রথমবার ঘরের মাঠে খেলতে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই দিনে, গ্যালারিতে তার উপস্থিতি অনুভব করা যাচ্ছিল, যদিও শারীরিকভাবে তিনি সেখানে ছিলেন না। গ্যালারির সেই আসনে, যেখানে তিনি সাধারণত বসতেন, আজ শূন্যতা ছিল। তবে, সমর্থকরা তার নাম উচ্চারণ করে গ্যালারিতে তার স্মৃতিকে সশ্রদ্ধভাবে মনে রাখেন। রাহুলের প্রতি এই গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা তার আত্মার অমরত্ব প্রমাণ করে। ইস্টবেঙ্গলের প্রতি তার একনিষ্ঠ সমর্থন এবং ভালোবাসা কখনোই ভোলার নয়।
গ্যালারির সেই বিশেষ মুহূর্তে রাহুলের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে, সমর্থকরা টিফো প্রদর্শন করেন যা সমস্ত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ছবির মধ্যে রাহুলকে হাসিমুখে দেখা যাচ্ছে, যেন সে বলছে, “আজও আমরা জয়ী হবো!” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ছবিটি ভাইরাল হয়ে ওঠে এবং রাহুলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নেটিজেনরা মন্তব্য করেন, “পর্দার হিরো চলে যেতে পারে, কিন্তু গ্যালারির হিরোরা চিরকাল অমর হয়ে থাকেন।” এই টিফো শুধু একটি ছবি নয়, এটি ছিল ইস্টবেঙ্গলের প্রতি রাহুলের অবিনশ্বর ভালোবাসার একটি চিহ্ন।
আরও পড়ুনঃ মাকে কিছুতেই হাত দিতে দেবে না চুলে! ঝুঁটি বাঁধতে না চাওয়ার মিষ্টি প্রতিবাদ মীরার! অহনা-দীপঙ্করের একরত্তি মেয়ে, কী কাণ্ড ঘটিয়েছে জানেন?
ইস্টবেঙ্গল ক্লাব, রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুর পর, তার অবদানকে স্মরণ করতে কখনোই তাকে ভুলবে না। যতদিন গ্যালারির মশাল জ্বলবে, রাহুলের স্মৃতি ততদিন ধ্রুবতারার মতো উজ্জ্বল থাকবে। ক্লাবের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল গভীর এবং এটি ক্লাবের সবার মনেই চিরকাল থাকবে। রাহুলের জীবন এবং তার প্রতি সমর্থকদের এই শ্রদ্ধা, যেন একটি উজ্জ্বল সূর্যোদয়ের মতো আমাদের হৃদয়ে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
